Tuesday , March 28 2017
Home / বাংলাদেশ / এক শিক্ষক দিয়েও চলে সরকারি প্রাথমিক স্কুল!

এক শিক্ষক দিয়েও চলে সরকারি প্রাথমিক স্কুল!

হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে প্রাথমিক শিক্ষা। শিক্ষকসংকটের কারণে ঠিকমতো পাঠদান হয় না। আবার শিক্ষক যাঁরা আছেন, তাঁরাও সময় মেনে স্কুলে যান না। কোনো কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাত্র একজন শিক্ষক দিয়েও চলছে। আবার কোনো কোনো বিদ্যালয় সংস্কারের অভাবে ভঙ্গুর।

সরেজমিনে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র দেখা গেছে। বর্তমানে এই জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ১ হাজার ৪২৬টি। কিন্তু এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৩৬২টি ও সহকারী শিক্ষকের ৫৭৭টি পদ শূন্য।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হজরত আলী জানালেন, জেলার বিভিন্ন উপজেলার মধ্যে তাহিরপুর, জগন্নাথপুর ও ধরমপাশায় শিক্ষকের সংকট বেশি।

তাহিরপুরে গিয়ে জানা গেল, এই উপজেলায় ১৩৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ আছে ৫৮৪টি। এর মধ্যে সম্প্রতি ৩৪ জন নিয়োগ দেওয়ার পরও সহকারী শিক্ষকের ৬৮টি পদ শূন্য। প্রধান শিক্ষকের ১৩১টি পদের (২টি স্কুলে প্রধান শিক্ষকের পদ নেই) মধ্যে কর্মরত আছেন ৭১টিতে। বাকি ৬০টি বিদ্যালয় চলছে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই।

তাহিরপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় নয় কিলোমিটার দূরের হাওর এলাকা মাড়ালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে। এই বিদ্যালয়ে তিনটি পদ থাকলেও প্রধান শিক্ষক ও একটি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য। বর্তমানে সহকারী শিক্ষক অজয় কুমার সরকার একাধারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের কাজ করছেন। তিনি প্রথম আলোকে জানালেন, বিদ্যালয়টিতে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি মিলিয়ে ১৫৪ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। ২০১৪ সাল থেকেই তিনি একা স্কুলটি সামলাচ্ছেন। কয়েক মাস হলো গ্রামের লোকজনের চাঁদায় একজনকে খণ্ডকালীন ক্লাস নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতেও সমস্যা মিটছে না। কোনো কারণে অফিসের কাজে উপজেলা বা বিদ্যালয়ের বাইরে গেলে সমস্যা আরও বাড়ে। আক্ষেপ করে তিনি বললেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বারবার জানিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। এখন আমি আর কী করতে পারি?’

তাহিরপুরের একজন শিক্ষকনেতা প্রথম আলোকে বলেন, এখানে বেশ কিছু বিদ্যালয় আছে, যেখানে মাত্র দুজন কিংবা তিনজন শিক্ষক দিয়ে চলছে।

তবে জেলা ও উপজেলা শহরের কাছের বিদ্যালয়গুলোতে উল্টো চিত্র। সুনামগঞ্জ সদরের গৌরাং ইউনিয়নের নিয়ামতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা গেল, এই বিদ্যালয়ে আটজন শিক্ষক। তাঁদের একজনকে অবশ্য অন্য বিদ্যালয়ে সংযুক্তিতে পাঠানো হয়েছে। আরেকজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। বাকি ছয়জনের মধ্যে গতকাল শনিবার চারজন উপস্থিত ছিলেন। দুজন নৈমিত্তিক ছুটিতে। প্রধান শিক্ষক মোছা. হাওয়ারুন্নেসা জানালেন, চারজন জেলা শহর থেকে যাতায়াত করেন। এই বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ১৮৪ জন হলেও গতকাল ১০০-এর কিছু বেশি উপস্থিত ছিল।

গত বৃহস্পতিবার আড়াইটার দিকে তাহিরপুরের রতনশ্রী পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেল, বিদ্যালয়টি ছুটি হয়ে গেছে। তবু পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পাওয়া গেল। সে জানাল, বর্ষার কারণে এখন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। যেমন তার ক্লাসে ১৫ শিক্ষার্থী থাকলেও ওই দিন ১০ জন উপস্থিত ছিল। একই দিনে বিশ্বম্ভরপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেল, চারজন শিক্ষকের মধ্যে তিনজন উপস্থিত, তবে শিক্ষার্থী মাত্র একজন।বন্যার কারণে শিক্ষার্থীরা আসেনি বলে জানালেন প্রধান শিক্ষক রেহানা খাতুন।

তাহিরপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রাব্বী জাহান বলেন, এই উপজেলার গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনেকে নিয়োগলাভের পর বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। ফলে সমস্যা রয়ে যায়।

শিক্ষকসংকটের কথা জেনেও সমাধান করতে পারে না স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হজরত আলী বলেন, তাঁদের হাতে প্রেষণ বা সংযুক্তির (বদলি না করেও যেখানে বেশি শিক্ষক, সেখান থেকে কাউকে কম শিক্ষক থাকা স্কুলে পাঠানো) ক্ষমতা না থাকায় সমস্যা জেনেও কিছু করতে পারেন না।

শুধু শিক্ষকসংকট নয়, শিক্ষা প্রশাসনে পর্যাপ্ত কর্মকর্তা না থাকায় তদারকি কার্যক্রম ভালোমতো হচ্ছে না বলে অভিভাবকেরা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।

About Azim Ahmed

Check Also

চকলেটের লোভ দেখিয়ে মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ !!

চকলেটের লোভ দেখিয়ে মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ !!

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে শাহজাহান (৩৫) নামের এক বখাটে চতুর্থ শ্রেণীর মাদ্রাসা পড়ুয়া এক ছাত্রীকে (১০) ধর্ষণ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *